অস্ত্রোপচারের মুখে মোস্তাফিজ

স্পোর্টস রিপোর্ট- বাংলাদেশের বোলিং স্টার মোস্তাফিজুর রহমান লম্বা সময়ের জন্য ছিটকে যেতে পারেন মাঠের বাইরে। তার ইনজুরির অবস্থা যা বলা হচ্ছে তাতে এই আশঙ্কা অনেক বেশি। তরুণ এই পেস সেনসেশনের লম্বা ভবিষ্যতের কথা ভেবে হয়তো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও তার কাঁধে অস্ত্রোপচারের জন্য রাজি হয়ে যাবে। এতে করে  দেশের মাটিতে আসন্ন ইংল্যান্ড সিরিজই নয়, আগামী ৬-৭ মাস তিনি হয়তো  কোনো ধরনের ক্রিকেটই খেলতে পারবেন না। তাকে ছাড়াই খেলতে হবে ডিসেম্বরে  নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজও। তার কাঁধের ইনজুরি সারাতে প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারের কথা জানালেন বিসিবির মিডিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুসও। তিনি বলেন, ‘ওর (মোস্তাফিজ) কাঁধে বাড়তি কিছু লিকুইড জমে আছে। আরেকটি এমআরআই করানো হবে ওখানে। এরপর বুঝতে পারবো আমাদের করণীয়। ইনজেকশন  দেয়া হবে নাকি অপারেশন, সেটা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। ওখানকার চিকিৎসকদের মতামত শুনবো আমরা, আমাদের ফিজিও-ডাক্তাররা তো আছেনই। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’ জাতীয় দলের হয়ে মোস্তাফিজের অভিষেক হয়েছে মাত্র এক বছর। এরপর থেকেই এই কাটার মাস্টার নিজের বোলিং দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের নজর কেড়েছেন। এই মুহূর্তে তার অস্ত্রোপচার হলে লম্বা একটি সময় ক্রিকেট থেকে দূরেই সরে যাবেন তিনি।
মূলত বিসিবি মোস্তাফিজকে নিয়ে কোনো ধরনের ঝুকি নিতে চায় না বলে জানান জালাল ইউনুস। এ জন্য তাকে নিয়ে খুবই সতর্ক বিসিবি। এই তরুণ পেসারের যে ধরনের ইনজুরি তাতে অস্ত্রোপচারের কোনো বিকল্পও নেই। তবে অস্ত্রোপচার করলে মাস ছয়েকের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে যেতে পারেন  মোস্তাফিজ। কিন্তু অক্টোবরে ইংল্যান্ড সিরিজ থেকে আগামী জুলাই পর্যন্ত টানা খেলা রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় দলের। সেক্ষেত্রে এখনই অস্ত্রোপচার করানো হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্নও থাকছে। কিন্তু প্রয়োজনে সব  কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত বিসিবি। জালাল ইউনুস বলেন, ‘পরিস্থিতি যেটা দাবি করবে, সে অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেয়া হবে। অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলে সেটাই করা হবে। পরিস্থিতি মতোই ব্যবস্থা নেয়া হবে।  মোস্তাফিজ আমাদের বড় এক সম্পদ। ওকে নিয়ে কোনো ঝুঁকিই নেওয়া হবে না।’
অন্যদিকে একই ধরনের কাঁধের চোট তামিম ইকবাল ও নাসির হোসেনেরও রয়েছে। কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।  অস্ত্রোপচার ছাড়াই চলছে তাদের চিকিৎসা। তাহলে মোস্তাফিজের বেলায় কেন এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নেয় হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তামিম ও নাসির মূলত ব্যাটসম্যান। নাসির বোলিং করলেও মূল বোলার নয়। ওদের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার ছাড়াই ম্যানেজমেন্ট সম্ভব। কিন্তু মোস্তফিজ পেসার, কাঁধের ওপর অনেক চাপ পড়ে। এ ইনজুরি যে কোনো সময়ই মাথাচাড়া দিতে পারে।’ একই কথা জানান জাতীয় দলের ম্যানেজার ও বোর্ড পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন। তিনিও মনে করেন মোস্তাফিজের কাছে ভবিষ্যতে আরো ভালো কিছু আশা করলে অস্ত্রোপচার করতেই হবে। তিনি বলেন, ‘এখনই অস্ত্রোপচার ছাড়া মোস্তাফিজ ইনজেকশন নিয়ে খেলতে পারবে। তার চিকিৎসক আমাদের সেটিও জানিয়েছে। কিন্তু আমরা সাসেক্সকে কড়া নির্দেশনা দিয়েছি যেন ব্যথার ইনজেকশন দিয়ে তাকে খেলানো না হয়। আর এখন অপারেশন না করালে পরে হয়তো অপারেশন করালেও সেই ব্যথা মাঝে মাঝে ফিরে আসতে পারে।’ মোস্তাফিজের অপারেশন করা লাগলে সেটি ইংল্যান্ডেই করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। জালাল ইউনুস বলেন, ‘যদি সাসেক্সের সঙ্গে চুক্তিতে তার চিকিৎসার ব্যয়ভার থাকে তাহলে হয়তো সাসেক্সই সব করবে। আর তা না হলে আমরা খরচ দেবো। আমি মনে করি চিকিৎসাটা ইংল্যান্ডেই করানো ভালো।

শেয়ার করুন

0 মন্তব্য: