ববিতার জীবনে সেরা জন্মদিনের উপহার

সেসব ছিল দারুণ সুখে রাঙানো অন্যরকম আনন্দের। পরপর কয়েকটা জন্মদিনই নিজের ছেলের সঙ্গে উদ্‌যাপন করতে পারার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে এমনটাই বললেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নায়িকা ববিতা। আরো বললেন, নায়িকা জীবনে স্মরণীয় এক জন্মদিন পালনের কথা। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, মোহসীন পরিচালিত ‘রাতের পরে দিন’ ছবিটি সুপার ডুপার হিট ব্যবসা করায় ঢাকার হোটেল পূর্বানীতে তিনি জন্মদিনের বিশেষ একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। অনুষ্ঠানে জাফর ইকবাল ও তিনি মিলে ইংরেজি গান গেয়েছিলেন। ববিতা বলেন, সেই সময়টার কথা আজ সত্যিই ভীষণ মনে পড়ছে। কারণ আমাকে আমার এক ভক্ত র‌্যাপিং পেপার দিয়ে মুড়িয়ে একটি ডাব উপহার দিয়েছিলেন। এটি পেয়েতো সবাই মজা পেয়েছিলাম। সেই স্মৃতি আজো চোখে ভাসে। ববিতার ছোটবেলা কেটেছে যশোরে। সেখানে তিনি ক্যান্টনমেন্টে দাউদ পাবলিক স্কুলে ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্রী ছিলেন। ছোটবেলায় ববিতা বাবার রাখা ইংরেজি পত্রিকা হাতে নিয়ে উল্টা পাল্টা পড়ে যেতেন। মেয়ের ইংরেজি পড়ার প্রতি আগ্রহ দেখে তার বাবা তাকে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়তে দেন। আবার ববিতার কোনো এক জন্মদিনে তার বাবা তাকে একটি ইংরেজি ডিকশনারি উপহার দিয়েছিলেন। তাতে ‘মা পপি’ সম্বোধন করে তার বাবা অনেক কিছুই লিখেছিলেন। বাবার দেয়া সেই ডিকশনারিটিই ববিতার জীবনে সেরা জন্মদিনের উপহার। বাবার দেয়া সেই গিফট আজো যত্ন করে রেখে দিয়েছেন তিনি। আজ ববিতার জন্মদিন। বিগত কয়েক বছর জন্মদিনে একমাত্র ছেলে অনিকের সঙ্গে কানাডায় উদ্‌যাপন করেছেন। কিন্তু এবার তিনি এই দিনটিতে দেশেই আছেন। জন্মদিন নিয়ে আপনার অনুভূতি কি? জবাবে ববিতা বলেন, জন্মদিন এলেই আমার মন খারাপ হতে থাকে। কারণ এ দিনটি আসা মানেই জীবন থেকে আরো একটি বছর চলে যাওয়া, মৃত্যুর কাছাকাছি এগিয়ে যাওয়া। এবারের জন্মদিন নিয়ে কী পরিকল্পনা আপনার? ববিতা বলেন, সত্যি বলতে কী বেশ কয়েকবছর পর আমি ঢাকায় জন্মদিন উদ্‌যাপন করছি। ভেবেছিলাম এবার একটু আয়োজন করে তা করবো। কিন্তু দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এখন ভালো নয়। দেশে ঘটে যাওয়া নানা দুর্ঘটনার কারণে নিজের মনটাও আসলে ভালো নেই। তাই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও এবারের জন্মদিনে কিছুই করছি না। হয়তো সাদামাটা একটি দিন যাবে আমার। আবার এমনও দেখা যেতে পারে আমার দুই বোন সুচন্দা বুজি আর চম্পা আসতেও পারে। দিনের কোনো একটি সময়ে ডিসিসিআইআই (ডিসট্রেস চিলড্রেন ইনফ্যান্ট ইন্টারন্যাশনাল) থেকে ছোট ছোট বাচ্চারা আসবে নাচতে, গাইতে। কারণ এর
গুডউইল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে এখনও কাজ করছি আমি। ওদের সঙ্গেই জন্মদিনের বিশেষ মুহূর্ত কেটে যাবে আমার। বিশেষ এই দিনটিতে আমি সবার কাছে দোয়া চাই যেন সবসময় ভালো থাকি, সুস্থ থাকি। আর আমি দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য দোয়া করি যেন সবাই যার যার অবস্থানে ভালো থাকেন।

শেয়ার করুন

0 মন্তব্য: