নির্বাচনে জিতলে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ

আন্তর্জাতিক রিপোর্ট :  ৮ মাসের মাথায় ফ্রান্সে ফের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ক্ষোভ জানিয়ে আসন্ন নির্বাচনে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যদি তিনি নির্বাচিত হন তাহলে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে কংগ্রেসকে আহ্বান জানাবেন।
ডেমোক্রেটিক দলের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকান দলের ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ওই কথা বলেন।
আজ রানিংমেট ঘোষণার পরিকল্পনা ছিল ট্রাম্পের। ফ্রান্সে ভয়াবহ হামলার কারণে তিনি তা বাতিল করেছেন।
ওই অনুষ্ঠানে হিলারি ক্লিনটন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরোপীয় মিত্রদেশ ও ন্যাটোর সঙ্গে সন্ত্রাস দমনে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। উগ্রবাদী জঙ্গি দমনে আমাদের লড়াই চালাতে হবে। বুঝতে হবে এটি অন্যরকম যুদ্ধ।
ফ্রান্সে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও। বলেছেন, এটি ‘ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা।’
‘পুরনো বন্ধু ফ্রান্সের পাশে যুক্তরাষ্ট্র সব সময় আছে। আমরা জানি এই হামলা ও প্রাণহানির ক্ষত ফ্রান্সকে অনেক দিন বয়ে বেড়াতে হবে’, বলেন ওবামা।
বৃহস্পতিবার ১৪ জুলাই স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায় ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় নিস শহরের কাছাকাছি সমুদ্র সৈকতে একটি উৎসবে জড়ো হওয়া জনতার ওপর গুলি করতে করতে দ্রুত গতিতে ট্রাক চালিয়ে দিয়ে দেয়ার ঘটনায় অন্তত ৮৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক।
পুলিশ চালককে গুলি করে হত্যা করে ট্রাকটিকে থামিয়েছে। এই ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।
তবে এটি জঙ্গিহামলা বলে নিশ্চিত করা হয়নি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। এ ছাড়াও কোনো জঙ্গি সংগঠন এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হামলার দায় স্বীকার করেনি।
বাস্তিল দুর্গ পতনের দিবস হিসেবে ফ্রান্সে জাতীয়ভাবে দিনটি পালন করা হয়, এ উপলক্ষেই শহরটিতে নানা অনুষ্ঠান চলছিল। উৎসবে মাততে রাস্তায় নেমেছিল মানুষ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছে, নিস শহরে যখন বাস্তিল দিবস উপলক্ষে একটি আতশবাজি প্রদর্শনী চলছিল, তখন বহু মানুষের ভিড়ের ওপর একটি ট্রাক গুলি করতে করতে উঠে যায়। ফলে ঘটনাস্থলেই অনেক মানুষ মারা গেছে।
নিস শহরের মেয়র ক্রিস্তঁ এস্তরোসি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ট্রাকচালক জনতার ওপর গুলিও চালাচ্ছিল। ওই ট্রাকে অস্ত্র ও গ্রেনেডও পাওয়া গেছে।
হামলার পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ বলেছেন, এটি নিঃসন্দেহে সন্ত্রাসী তৎপরতার অংশ। শেষরাতে জাতির উদ্দেশে দেয়া ওই ভাষণে দেশটিতে ৮ মাস আগে জারি করা জরুরি অবস্থার মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানোর ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে রিজার্ভ সেনা সদস্যদের তলব করেন প্রেসিডেন্ট ওঁলাদ।


শেয়ার করুন

0 মন্তব্য: