শিগগিরই ধূমপায়ী চিহ্নিত করতে জরিপ হবে


দেশে প্রাপ্তবয়স্ক তামাক ও ধূমপায়ীর হার নিরূপণে জাতীয় জরিপ করা হবে। দীর্ঘ সাত বছর পর আবারো জাতীয় জরিপ পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল অ্যান্টি টোব্যাকো সার্ভের (জিএটি) আওতায় ও সহযোগিতায় শিগগিরই জরিপ শুরুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় এ জরিপে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে শতকরা কতভাগ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন তা নির্ধারিত হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা) ও জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সভাপতি রোকসানা কাদের এ তথ্যের নিশ্চয়তা স্বীকার করে গণমাধ্যকে বলেন, সর্বশেষ ২০০৯
সালে ধূমপায়ীর হার নিরূপণে জাতীয় জরিপ হয়েছিল। সাত বছর পর এ জরিপ কার্যক্রম নতুন করে শিগগিরই শুরু হবে। এ জরিপ পরিচালনার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে জরিপ-পূর্ব সকল ধরনের আলোচনা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টোব্যাকো ফ্রি ইনিসিয়েটিভ (টিএফআই) ও গ্লোবাল টোব্যাকো সার্ভিলেন্স সিস্টেমের আওতায় গ্লোবাল টোব্যাকো সার্ভে বিশ্বের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ২৫টি দেশে জাতীয়ভাবে ধূমপায়ীর সংখ্যা নিরূপণে সহায়তা প্রদান করে থাকে। এ জরিপের মাধ্যমে একটি দেশের শতকরা মোট কত শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ধূমপান করে ও ধূমপানের অপব্যবহার রোধে কোন দেশ কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং কোন দেশে কতটুকু সফলতা এসেছে তা নিরূপণ করা হয়। এ জরিপের আওতায় তামাক ও তামাকবিহীন ধূমপায়ীর হার, পরোক্ষ ধূমপানের শিকার ও তা প্রতিরোধে গৃহীত নীতিমালা, ধূমপান পরিত্যাগকারীর সংখ্যা, ধূমপানের অপব্যবহার সম্পর্কে জ্ঞান, ভাবভঙ্গি ও অভিজ্ঞতা, গণমাধ্যমের ভূমিকা ও অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়গুলো নির্ণয় হয়। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২০০৯ সালে সর্বশেষ জিএটি অনুসারে দেশের ৪৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক সেবন করেন।
বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর শতকরা ৪৫ ভাগ অর্থাৎ ৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ পাবলিক প্লেস ও পরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। এছাড়া শতকরা ৩০ ভাগ নারী কর্মস্থলে ও শতকরা ২১ ভাগ নারী জনসমাগমস্থলে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। অর্থাৎ ধূমপান না করেও এক কোটি নারী ধূমপানের শিকার হন। তিনি আরো জানান, বাংলাদেশে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ তামাক। তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে মূলত বিড়ি, সিগারেট, জর্দা, গুল ও সাদাপাতা ব্যবহৃত হয়। তামাক সেবনের ফলে নানা প্রকারের দুরারোগ্য ব্যাধি, যেমন- বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার, হৃদরোগ, স্ট্রোক, যক্ষ্মা, পক্ষাঘাত ও দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট ইত্যাদিতে আক্রান্তের পাশাপাশি নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যজনিত ক্ষতি হয়। অতিরিক্ত সচিব ও জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের প্রধান রোকসানা কাদের জানান, তামাক ও তামাকজাত দ্রব্যের অপব্যবহার বন্ধে সরকারিভাবে আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার। বিগত কয়েক বছরে দেশে ধূমপায়ী ও তামাকজাত অন্যান্য দ্রব্য (জর্দা, গুল ও খৈনী ইত্যাদি) ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমেছে। নতুনভাবে পরিচালিত জরিপের মাধ্যমে এর দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শেয়ার করুন

0 মন্তব্য: