৬টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানীর গড়ে ২০ থেকে ৬৬ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১লা সেপ্টেম্বর থেকে গড়ে ২৬ দশমিক ২৯ শতাংশ গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বছর না ঘুরতেই আবারো বাড়ছে সব ধরনের গ্যাসের দাম। ইতোমধ্যে ৬টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানী গড়ে ২০ থেকে ৬৬ শতাংশ দাম বাড়নোর প্রস্তাব দিয়েছে। এ প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আগামী ৭ আগস্ট থেকে গণশুনানি শুরুর করার কথা জানিয়েছে বিইআরসি। গণশুনানি চলবে আগামী ১৮ আগস্ট পর্যন্ত। শুনানি শেষ হওয়ার পর তিন মাসের মধ্যে এর রায় ঘোষণা করবে কমিশন। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে আগস্টে গণশুনানি শেষ হলে সেপ্টেম্বরে গ্যাসের নতুন দাম ঘোষণা করবে কমিশন।

বিইআরসি সূত্রে জানা যায়, গত নবেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন দফায় পেট্রোবাংলার আওতাধীন ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানি সব শ্রেণীর ভোক্তাপর্যায়ে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। এতে ত্রুটি থাকায় প্রস্তাব ফেরত পাঠায় বিইআরসি। পরে চলতি বছরের মার্চ থেকে গত মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত নতুন করে পৃথকভাবে এসব প্রস্তাব দেয়া হয়। এতে বর্তমান দামের চেয়ে আরো ২০ থেকে ৬৬ শতাংশ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করে কোম্পানিগুলো।

বিইআরসি জানিয়েছে প্রথমদিন গণশুনানি হবে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লি. (জিটিসিএল) এর। এরপর পর্যায়ক্রমে ৮ই আগস্ট তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্র্রিবিউশন কোম্পানি লিঃ, ১০ই আগস্ট পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লি., ১১ই আগস্ট বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি., ১৪ই আগস্ট কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি., ১৬ই আগস্ট জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি., ১৭ই আগস্ট সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লি. এবং ১৮ই আগস্ট পেট্রোবাংলা, বিজিএফসিএল, এসজিসিএল ও বাপেক্স এর গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের উপর গণশুনানি হবে। প্রতিদিন সকাল ১১টায় শুনানি শুরু হবে।

সূত্র জানায়, গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো আবাসিক দুই চুলা ৬৫০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা, এক চুলা ৬০০ থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা আর প্রতি ঘনমিটার সাত টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬ টাকা ৮০ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছে। শিল্পকারখানার ক্যাপটিভ পাওয়ারে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম আট টাকা ৩৬ পয়সা থেকে ১৯ টাকা ২৬ পয়সা, যানবাহনের সিএনজি ৩৫ থেকে ৫৮ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া বিদ্যুতে প্রতি ঘনমিটার দুই টাকা ৮২ পয়সা থেকে চার টাকা ৬০ পয়সা, শিল্প বয়লারে ছয় টাকা ৭৪ পয়সা থেকে ১০ টাকা ৪৫ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ইসতিয়াক আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কোম্পানি থেকে পেট্রোবাংলা গ্যাস কেনে। বেশি দামে গ্যাস কিনে কম দামে বিক্রি করতে হয়। আগে গ্যাস বিক্রিতে ট্যাক্স-ভ্যাট দিতে হতো না। এখন দিতে হবে। তাই কোম্পানিগুলোর ঘাটতি দূর করতে ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে ও ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য সমন্বয়ের ব্যাপারে গণশুনানির আয়োজন করে বিইআরসি। তখন উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ খরচের সঙ্গে দাম সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছিল বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো।


শেয়ার করুন

0 মন্তব্য: