এরদোগানের পার্টির ৩ লাখ ই-মেইল ফাঁস উইকিলিকস বন্ধ

একের পর এক নাটকীয়তার অবতারণা হচ্ছে তুরস্কের রাজনীতিতে। ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টার পর প্রশাসনের সর্বস্তরে ব্যাপক শুদ্ধি অভিযান চালায় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের সরকার। এরপর সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকসে ফাঁস হয়ে যায় ক্ষমতাসীন দল একেপি’র ৩ লাখ ই-মেইল। ইউকিলিকসের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, অভ্যুত্থান পরবর্তী সরকারি শুদ্ধি অভিযানের জবাবে ই- মেইলগুলো ফাঁস করা হয়েছে। এরপরই ওয়েবসাইটটি ব্লক করে দেয় তুরস্ক। এ খবর দিয়েছে গার্ডিয়ান। ফাঁস হওয়া ই-মেইলগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১০ সাল থেকে শুরু করে এ বছরের ৬ই জুলাই পর্যন্ত আদান-প্রদান হওয়া ই- মেইল। উইকিলিকস আরো বলেছে, ই-মেইলগুলো অভ্যুত্থান চেষ্টার কয়েকদিন আগে তারা পেয়েছে। আর এগুলো পাওয়ার সূত্র অভ্যুত্থান পরিকল্পনাকারী বা প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। তুরস্কের টেলিকমিউনিকেশন্স বোর্ড বলেছে, উইকিলিকস ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে ‘প্রশাসনিক পদক্ষেপ’ নেয়া হয়েছে। কোনো ওয়েবসাইট ব্যবহার বন্ধ করে দেয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত এ টার্মটি ব্যবহার করে থাকে তুর্কী কর্তৃপক্ষ। গার্ডিয়ানের খবরে আরো বলা হয়, রাজনৈতিক নানা ঘটনার প্রেক্ষিতে নিয়মিতই ইন্টারনেট ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করে দেশটি। সমালোচক এবং মানবাধিকার কর্মীরা একে দেখেন গণমাধ্যম ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হামলা হিসেবে। ইউকিলিকসের সাম্প্রতিক এই তথ্য ফাঁসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণ ব্যাখ্যা দিয়ে সিনিয়র এক তুর্কী কর্মকর্তা বলেছেন, তথ্যগুলো চুরি করে বা অবৈধভাবে হস্তগত করা হয়েছে। এদিকে, এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের কয়েক ঘণ্টা পরই উচ্চপদস্থ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার পর এ বৈঠকেই প্রথমবারের মতো মিলিত হবেন প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রিপরিষদ এবং সামরিক কর্মকর্তারা। বৈঠকে অভ্যুত্থান পরবর্তী নীতি নিয়ে আলোচনা হবে। ইতিমধ্যে সরকার প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছে। বরখাস্ত ও আটক করা হয়েছে হাজারো পুলিশ কর্মকর্তা, বিচারক ও শিক্ষককে। কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাসিত ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের আস্থাভাজনদের টার্গেট করেই এই শুদ্ধি অভিযান চলছে।

শেয়ার করুন

0 মন্তব্য: