আসেম সম্মেলনে গেলেন প্রধানমন্ত্রী


মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটোরে আজ থেকে শুরু হওয়া ১১তম এশিয়া-ইউরোপ শীর্ষ সম্মেলনে (আসেম) অংশ নিতে দেশটি সফরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, তিনবাহিনী প্রধানগণ, কূটনৈতিক কোরের ডিন এবং উচ্চ পর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। গতকাল স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় উলানবাটোর পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে উলানবাটোরের চেঙ্গিস খান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। চীন ও মঙ্গোলিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফজলুল করিম এবং মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ ও অ্যাম্বাসেডর এট লার্জ পি. সাগান বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। পরে মঙ্গোলিয়ার সশস্ত্রবাহিনী প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দর থেকে আনুষ্ঠানিক মোটর শোভাযাত্রা সহকারে আসেম ভিলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালে তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন। আজ প্রধানমন্ত্রী শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। স্থানীয় সাংগ্রিলা হোটেলের সম্মেলনস্থলে পৌঁছালে মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্ট তাসখিয়াজিন এলবেগদর্জ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সেখানে স্বাগত জানাবেন। শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম ও দ্বিতীয় পূর্ণ অধিবেশনে অংশ নেবেন তিনি এবং আসেম অংশীদারিত্ব ও যোগাযোগ বিষয়ে বক্তব্য রাখবেন। সফরের প্রথম দিনে শীর্ষ সম্মেলনের সাইড লাইনে প্রধানমন্ত্রীর সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট জন জোহান স্নেইডার আম্মান, রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল ও ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাওলো জেন্টিলোনির সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। একই দিনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে’র উদ্যোগে সন্ত্রাস প্রতিরোধবিষয়ক একটি সাইড লাইন ইভেন্টে কো-চেয়ারের দায়িত্ব পালন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরের দ্বিতীয় এবং সমাপনী দিনে (শনিবার) প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট তিন কাও, ভারতের ভাইস প্রেসিডেন্ট হামিদ আনসারী, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জিন ক্লদ জাঙ্কারের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া, শীর্ষ সম্মেলনের অতিথিদের সম্মানে আসেম ভিলেজের মঙ্গোলজেন-এ মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে ভোজসভা এবং সমাপনী অধিবেশনেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরকালে এশিয়া ও ইউরোপ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠেয় বৈঠক এবং সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতায় দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশে সাম্প্রতিক দুটি সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ মোকাবিলায় সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের বিষয়টি সরকার প্রধান তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বাংলাদেশ, বেলজিয়াম, ব্রুনাই, দারুস সালাম, বুলগেরিয়া, কম্বোডিয়া, চীন, ক্রোয়েশিয়া, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রীস, হাঙ্গেরি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, জাপান, কাজাখস্তান, লাও পিডিআর, লাতভিয়া, লিথুনিয়া, লুক্সেমবার্গ, মালয়েশিয়া, মাল্টা, মঙ্গোলিয়া, মিয়ানমার, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, পাকিস্তান, ফিলিপিন্স, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, কোরিয়া, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও ভিয়েতনাম এবং দুটি আঞ্চলিক সংস্থা হচ্ছে- ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আসিয়ান বর্তমানে আসেমের সদস্য। ২০১২ সালে বাংলাদেশ এই ফোরামের আনুষ্ঠানিক সদস্যপদ লাভ করে। প্রধানমন্ত্রীর আসেম শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান উপলক্ষে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। সেখানে তিনি জানান, আসেম শীর্ষ সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে আলোচিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সন্ত্রাসবাদের বিষয়টি আসবে। এছাড়া, নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠেয় বৈঠকেও দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক দুটি সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ মোকাবিলায় সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরবেন। সম্মেলনের ফাঁকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন। ওই আলোচনায় যৌথভাবে সভাপতিত্ব করার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আবে’র আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন এবং সেখানে কো-চেয়ার হিসেবে অংশ নেবেন। মন্ত্রী জানান, তিনিসহ ৩৫ সদস্যের অফিসিয়াল প্রতিনিধি দল মঙ্গোলিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হবে। ১৬ই জুলাই প্রধানমন্ত্রী ঢাকা ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

0 মন্তব্য: