হাঁসের খামারে স্বাবলম্বী

মেহেরপুর প্রতিনিধি -মেহেরপুরের বিভিন্ন গ্রামের গৃহিণীদের কাছে গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে হাঁস পালন। প্রতিটি বাড়ি যেন এক-একটি মিনি খামারে পরিণত হয়েছে। এতে একদিকে যেমন পুষ্টির চাহিদা মিটছে অপরদিকে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তারা। মেহেরপুর জেলা জুড়ে ২৯ কিলোমিটার ভৈরব নদ। এছাড়া রয়েছে মাথাভাঙ্গা নদীর একপাড় এবং নাব্যতা হারিয়ে ফেলা কাজলা ও মরাগাং নামের নদীসহ অসংখ্য খাল-বিল। ভৈরব নদসহ এসব নদী ও খাল-বিল পাড়ের গৃহিণীরা বাড়তি আয়ের আশায় ঘরে ঘরে পালন করছেন ১০-১২টি থেকে শুরু করে ৪০-৫০টি করে রাজহাঁস। এছাড়া বিভিন্ন গ্রামের মাঠের ধারের বাড়িতে চলছে হাঁস পালন। সরজমিনে মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে হাঁস পালনের দৃশ্য। কারও বাড়িতে ৪০টি, কারও বাড়িতে ৫০ থেকে ৬০টি আবার কারও বাড়িতে শতাধিক হাঁস রয়েছে। বিশেষ করে নদী ওখাল পাড়ের বাসিন্দাদের প্রতিটি বাড়িতে এমন দৃশ্য দেখা যায় হরহামেশায়। সকাল হলেই তারা হাঁসগুলো নিয়ে গিয়ে নদী পাড়, খালের পাড় ও বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতে রেখে আসছেন। হাঁসগুলোর খাওয়া শেষ হলে বিকালে তারা বাড়ি ফিরে নিয়ে আসছেন। গৃহবধূরা হাঁস বিক্রি করে যে অর্থ পাচ্ছেন তা দিয়ে ছেলে-মেয়েদের লেখাপাড়ার খরচ যোগাচ্ছেন। বাকি অর্থ সংসারের অন্যান্য খরচ মিটাতে স্বামীকে সহযোগিতা করেন তারা। মেহেরপর ভৈরব নদ পাড়ের গ্রাম যাদবপুর। ওই গ্রামের মোমেজানকে দেখা যায়- ভৈরব পাড়ে রাজহাঁস চরাতে। তিনি বলেন- তার ৩৬টি রাজহাঁস রয়েছে। তিনি সকাল বেলা হাঁসগুলো ছেড়ে দেন। ওই হাঁসগুলো ভৈরব নদীতে চরে বেড়ায়। দুপুরের দিকে একবার খোঁজ নিয়ে যান। আবার সন্ধ্যার আগে হাঁসগুলো তাড়িয়ে নিয়ে ঘরে তোলেন। হাঁস পালনের জন্য তার বেশি পরিশ্রম ও খরচ করতে হয় না।
দিনে একবার বাড়িতে খেতে দিলেই হাঁসগুলোর চলে যায়। তারা নদের কচুরিপনা ও নদের ধারের এটা-সেটা কুড়িয়ে খায়। তিনি আরো বলেন- ভৈরব পাড়ের গোভীপুর, রাজাপুর, রাধাকান্তপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের অনেক গৃহিণী আছেন যার ৫০-৬০টি করে রাজহাঁস রয়েছে। একটি হাঁস ৪ থেকে ৫ কেজি ওজনের হয়ে থাকে। ২শ’ টাকা কেজি দরে এ হাঁস বিক্রি হয়। এক জোড়া রাজহাঁসের বাচ্চা বিক্রি হয় ৩শ’ টাকায়। আর বাচ্চা ফোঁটানোর উপযোগী ডিম একশ’ টাকা জোড়া বিক্রি করা যায়। মেহেরপুরগাংনী ডিগ্রী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এনামুল আযীম বলেন, গ্রাম-গঞ্জের এসব গৃহিণীদের অধিকাংশই বিভিন্ন এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে রাজহাঁস পালন করছেন। তাই তাদের লাভের সিংহভাগ যাচ্ছে এনজিও’র ঘরে। এসব গৃহিণীদের সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ প্রদানসহ সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হলে তারা আরো বেশি লাভবান হবেন। রাজহাঁস পালনের উদ্যোক্তা আরো বৃদ্ধি পাবে। মেহেরপুর জেলা প্রাণি সম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়- মেহেরপুর জেলায় হাঁস-মুরগির খামারের পরিসংখ্যান তাদের কাছে আছে। কিন্তু এভাবে বাড়ি বাড়ি গড়ে উঠা রাজহাঁস পালনের মিনি খামারের পরিসংখ্যান তাদের কাছে নেই।

শেয়ার করুন

0 মন্তব্য: