যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি হ্যাকারের সাজা


মির ইসলামের টার্গেটদের নাম দেখলে চমকে যেতে হবে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামা, মার্কিন কংগ্রেসের একাধিক সদস্য, ফেডারেল কৌঁসুলি ও অস্ত্র বিক্রেতাদের প্রভাবশালী সংগঠন ন্যাশনাল রাইফেল এসোসিয়েশনের (এনআরএ) প্রেসিডেন্ট ওয়েইন লা পিয়েরে এবং বহু নামিদামি মানুষকে হেনস্থা করেছেন এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হ্যাকার। এসব সাইবার অপরাধের দায়ে ওয়াশিংটন ডিসির ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক র‌্যান্ডলফ মস তাকে ২ বছরের সাজা দিয়েছেন। ওয়াশিংটন টাইমসের খবরে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে এর আগে চুরি হওয়া ক্রেডিট কার্ড পাচারের অভিযোগ ছিল। ওই মামলায় অপ্রকাশিত কোর্ট নথিপত্র প্রকাশের দায়ে তাকে এ সাজা দেয়। ২২ বছর বয়সী মির ইসলামকে ২০১২ সালের জুনে প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়। চুরি হওয়া ক্রেডিট কার্ড কেনাবেচার কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে এফবিআই’র অভিযানে আরো প্রায় দুই ডজন মানুষের সঙ্গে আটক হন তিনি। ওই মামলায় তিনি দোষ স্বীকার করেন এবং গোপনে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি জড়িয়ে যান বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভয় প্রদর্শন ও হেনস্থা করার নতুন অপরাধে। এ অপরাধের দরুনও সোমবার তাকে সাজা দেয়া হয়। আদালতের নথিপত্রে বলা হয়েছে, এফবিআইকে সহযোগিতা করার সময়ই তিনি সহ আরো কয়েকজন হ্যাকার কয়েক ডজন বিখ্যাত ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে প্রকাশ করেন। কিছু ক্ষেত্রে তারা ওই তথ্য ব্যবহার করে, পুলিশের কাছে ফোন করেন। কিছু ফোনকল এতটাই গুরুতর ছিল যে, পুলিশের বিশেষ বাহিনী সোয়াট টিম ভিকটিমের বাড়িতে পৌঁছে যায়। যেমন, একটি ঘটনায় তিনি পুলিশে ফোন দিয়ে বলেন যে, এক কংগ্রেসম্যান তার স্ত্রীকে গুলি করেছে। কিংবা অমুক জায়গায় বোমা ফুটেছে। তটস্থ হয়ে তৎক্ষণাৎ পুলিশের সোয়াট টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে বুঝতে পারে, তাদের বোকা বানানো হয়েছে।
মির ইসলাম প্রায় ৫০ জনেরও বেশি মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করেছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন মার্কিন ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামা, ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, অভিনেতা মেল গিবসন। এছাড়া, ভুয়া পুলিশি ফোন কলের মাধ্যমে হেনস্থা করেছেন যাদের, তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্স, কেন্দ্রীয় কৌঁসুলি স্টিফেন পি. হেম্যান, সাংবাদিক ব্রায়ান ক্রেবস ও এনআরএ’র প্রেসিডেন্ট লা পিয়েরে। তবে তার আইনজীবী জানিয়েছেন, তিনি কিছু মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। এসব সমস্যায় তার চিকিৎসাও চলছে।
২০১৫ সালের জুলাইয়ে তিনটি অভিযোগই স্বীকার করে নেন ইসলাম। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশে জন্ম মির ইসলামের। ৬ বছর পর পিতামাতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি।

শেয়ার করুন

0 মন্তব্য: