জামালপুরের ৩ রাজাকার-আলবদরের ফাঁসির আদেশ

ঢাকা ব্যুরো: আলবদর বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আশরাফ হোসাইনসহ জামালপুরের তিন রাজাকার-আলবদরের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত অন্য দুজন হলেন— মো. আব্দুল বারী ও মো. আব্দুল মান্নান। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিই পলাতক।
এ ছাড়া আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে বাকি পাঁচজনকে। তারা হলেন— জামালপুর শহরের নয়াপাড়া এলাকার অ্যাডভোকেট মো. শামসুল হক ওরফে ‘বদর ভাই’ ও সিংহজানি বালক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফুলবাড়িয়ার বাসিন্দা এস এম ইউসুফ আলী এবং ইসলামী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক শরীফ আহাম্মেদ ওরফে শরীফ হোসেন, হারুন ও মো. আবুল হাশেম।
সোমবার ১৮ জুলাই  সকালে বিচারপতি আনোয়ারুল হক নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। বিচারিক প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদী।
আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন, লুটপাট ও মরদেহ গুমের পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। এসব অভিযোগের মধ্যে তিনটিই প্রমাণিত হওয়ায় এসব সাজা দেন ট্রাইব্যুনাল।
রায় শোনাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে আসামির কাঠগড়ায় হাজির করা হয় গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি অ্যাডভোকেট শামসুল আলম ওরফে ‘বদর ভাই’ ও সাবেক জামায়াত নেতা এস এম ইউসুফ আলীকে। অন্য ছয় আসামি পলাতক।
আসামিদের মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া দুজন মুক্তিযুদ্ধে রাজাকার বাহিনীর সদস্য ছিলেন। পলাতক বাকি ছয়জন ছিলেন আলবদর বাহিনীর।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিচারপতি আনোয়ারুল হক নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে রায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যানের প্রারম্ভিক বক্তব্যের পর বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম ২৮৯ পৃষ্ঠার রায়ের সার সংক্ষেপ পড়া শুরু করেন। এর পর বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদী রায়ের বাকি অংশ পড়েন এবং সবশেষে বিচারপতি আনোয়ারুল হক সাজা ঘোষণা করেন।
২০১০ সালের ২৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধের বহু প্রতীক্ষিত বিচার শুরুর পর এটি ২৫তম রায়।
গত ২৫ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
আসামিদের বিরুদ্ধে আনিত ৯২ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে জামালপুরের উক্ত আটজনের বিরুদ্ধে হত্যা, লাশ গুম, লুটপাট, নির্যাতন ও অপহরণসহ ১০ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠনের পাঁচটি অভিযাগ পাওয়া গেছে।
এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৬ পাতার দালিলিক প্রমাণ এবং ৪০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধের সময়কাল ১৯৭১ সালের ২২ এপ্রিল থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ধরা হয়েছে।
যুদ্ধকালে আসামিরা জামালপুরে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে হত্যা, ৫০ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস করে প্রায় ১২ কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শেয়ার করুন

0 মন্তব্য: