গাজীপুরে গার্মেন্ট শিল্পাঞ্চলে বাড়ানো হচ্ছে নিরাপত্তা

সামপ্রতিক জঙ্গি হামলার প্রেক্ষিতে গার্মেন্ট শিল্প অধ্যুষিত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের চেয়ে জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে একদিকে কারখানার ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। অন্যদিকে যেসব কারখানায় বিদেশি নাগরকি কর্মরত আছেন, সেগুলোর তালিকা তৈরি করে দেয়া হচ্ছে বিশেষ গুরুত্ব। ওই সব কারখানা এলাকায় শিল্প পুলিশের উপস্থিতি বা টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গুলশান ও শোলাকিয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত জঙ্গি হামলার ঘটনার পর বিদেশি ক্রেতাদের আসা-যাওয়া কিছু কমে গেলেও অনেক পোশাক কারখানায় সুখবর রয়েছে। যৌথ বিনিয়োগে বিদেশি মালিকানায় থাকা কয়েকটি কারখানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে একেবারেই আগের মতোস্বাভাবিক ভাবেই চলছে ওই সব কারখানা। আবার অনেক করাখানায় কোনো ধরনের উৎকণ্ঠা ছাড়াই স্বাভাবিক গতিতে কাজ কর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন বিদেশি  নাগরিকেরা। নগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার লেভেন্ডার গার্মেন্ট  কারখানার ম্যানেজার নজরুল ইসলাম জানান, তাদের কারখানায় বিদেশি মালিকানা থাকলেও ওই বিদেশি মালিকের মাঝে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তেমন কোনো দুশ্চিন্তা নেই। কারণ হিসেবে তিনি জানান, ইউরোপের একটি দেশেরে নাগরিক ওই মালিকের দেশেই কয়েকবার নাশকতা হয়েছে।
তিনি এদেশে প্রায় ২০ বছর ধরে বসবাস করছেন। ঢাকায় বাসবাস করেন। তিনি গাজীপুরের তেমন একটা কারখানায় আসেন না। যদিও বর্তমানে বাসা থেকে একটু কমই বাইরে বের হচ্ছেন। বিদেশি কিছু কিছু ক্রেতা অতি সম্প্রতি ঢাকায় আসছেন না। তাদের সঙ্গে বাইরে যোগাযোগ করেই অর্ডার এবং ডেলিভারি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ পরিস্থিতি নিয়েও মালিক তেমন কোনো উৎকণ্ঠায় নেই। মালিকের মনোভাবই যেখানে স্বাভাবিক, সেখানে কারখানায় উৎপাদন ব্যবস্থা নিয়ে তো কোনো সমস্যাই নেই। তাদের ওই কারখানায় একজন বিদেশি নাগরিক কর্মরত থাকলেও তিনি তার আবাসিক এলাকা থেকে কারখানার উচ্চপদস্থ অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে গাড়িতে আসা যাওয়া করেন। তার মনেও তেমন কোনো নীতিবাচক মনোভাব ফুটে উঠেনি বলেই মনে হচ্ছে। কোনো কোনো কারখানায় এরকম স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় থাকলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণকারী বিভাগগুলো বসে নেই। তাদের জোরালো তৎপরতা রয়েছে। জেলা ও নগরের বিভিন্ন এলাকার পোশাক কারখানাগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকালে কারখানায় আসা শ্রমিকদের মালপত্র বা খাবার যথাযথ পরীক্ষা করে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে এবং কোথাও কোথাও মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করতে কারখানা মালিকদের নির্দেশনা রয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্পের ইমেজ নষ্ট করতে নাশকতা সৃষ্টির মতো যড়যন্ত্র যাতে কেউ না করতে পারে এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ বিভাগও যথেষ্ট সজাগ রয়েছে। পুলিশ সুপার মো. হারুন অর রশীদ বিপিএম, পিপিএম (বার) জানান, এই মুহূর্তে গার্মেন্ট এলাকায় যাতে কোনো ধরনের আন্দোলন না হয়, এজন্য মালিক পক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে শিল্প পুলিশ বিভাগ অত্যন্ত সজাগ রয়েছে। কোনো আন্দোলনের মাধ্যমে জঙ্গিবাদীরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করার সুযোগ নিতে পারে এমন বিষয় মাথায় রেখেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাগণ আগের চেয়ে অনেক বেশি তৎপর। শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাহমিদুল ইসলাম বলেন, পোশাক খাতে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তার যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, এজন্য আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছি।
এছাড়া বিদেশি ক্রেতাদের নিরাপত্তা দেয়ার লক্ষে শিল্প পুলিশ সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছে। বিদেশি ক্রেতাদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে শিল্পাঞ্চল পুলিশ। শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করতে শিল্প পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ বিশেষ স্থান চিহ্নিত করে পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। এ ছাড়া নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

0 মন্তব্য: