সাখাওয়াতের ফাঁসি, সাত রাজাকারের আমৃত্যু কারাদণ্ড


ঢাকা ব্যুরো: মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জাতীয় পার্টির নেতা সাবেক সংসদ সদস্য একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যশোরের কেশবপুরের রাজাকার কমান্ডার সাখাওয়াত হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই মামলার আট আসামির মধ্যে কেশবপুরের অন্য সাত রাজাকারকে দেওয়া হয়েছে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ।
আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাতজন হচ্ছেন- মো. বিল্লাল হোসেন, মো. ইব্রাহিম হোসেন, শেখ মোহাম্মদ মুজিবর রহমান, মো. আব্দুল আজিজ সরদার, মো. আজিজ সরদার, কাজী ওয়াহেদুল ইসলাম ও মো. আব্দুল খালেক মোড়ল।
আসামিদের বিরুদ্ধে আনা দুই জনকে হত্যা, এক নারীকে ধর্ষণ, অন্য কয়েকজনকে অপহরণ, আটক ও নির্যাতন এবং বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগসহ পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মধ্যে সবগুলোই প্রমাণিত হওয়ায় পৃথক পৃথকভাবে এ সাজা পেয়েছেন তারা। এর মধ্যে সাখাওয়াত পাঁচটি অপরাধের দু’টিতে মৃত্যুদণ্ড ছাড়াও অন্য তিনটি মিলে আরও ৪৫ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন। মো. ইব্রাহিম হোসেন পাঁচটি অপরাধের দু’টিতে আমৃত্যু ও তিনটি মিলে ৪৫ বছর, মো. আব্দুল আজিজ সরদার ও মো. আজিজ সরদার চারটি অপরাধের দু’টিতে আমৃত্যু ও দু’টি মিলে ৩৫ বছর, মো. আব্দুল খালেক মোড়ল চারটি অপরাধের দু’টিতে আমৃত্যু ও দু’টি মিলে ২৫ বছর, শেখ মোহাম্মদ মুজিবর রহমান দু’টি অপরাধের একটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও একটিতে দশ বছর এবং মো. বিল্লাল হোসেন একটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড পেয়েছেন।
একই মামলার ওই আট আসামির মধ্যে গ্রেফতার রয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন ও মো. বিল্লাল হোসেন। বাকি ছয়জন পলাতক।
বুধবার ১০ আগস্ট সকালে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার ২৬তম এ রায় ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার উল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল। বিচারিক প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হচ্ছেন বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দী।
সকাল দশটা ৫৫ মিনিট থেকে বেলা সোয়া বারটা পর্যন্ত ৭৬৮ পৃষ্ঠার এ রায়ের সারসংক্ষেপ পড়ে শোনান ট্রাইব্যুনাল। রায়ের প্রথম অংশ পড়েন বিচারিক প্যানেলের সদস্য বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম। পরে রায়ের মূল অংশ সাজা ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার উল হক। শুরুতেই প্রারম্ভিক বক্তব্যও দেন চেয়ারম্যান, তাতে তিনি জানান, অপরাধ প্রমাণের বিষয়ে বিচারকরা একমত হলেও সাজা ঘোষিত হচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে।
সকাল সাড়ে দশটার পরে রায় শোনাতে সাখাওয়াত হোসেন ও মো. বিল্লাল হোসেনকে গাজীপুরের কাশিমপুরের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ থেকে ট্রাইব্যুনালে এনে রাখা হয় হাজতখানায়। পরে তোলা হয় ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে আসামির কাঠগড়ায়। রায়ের পরে তাদেরকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে ফের কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নয় আসামির মধ্যে মো. লুৎফর মোড়ল গ্রেফতার হওয়ার পর অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ায় এর আগে তাকে আসামি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
নয় আসামির মধ্যে মো. লুৎফর মোড়ল গ্রেফতার হওয়ার পর অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ায় এর আগে তাকে আসামি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
একাত্তরের ইসলামী ছাত্রসংঘ নেতা সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে যশোরের কেশবপুরের রাজাকার বাহিনীর কমান্ডার। অন্য আসামিরা ছিলেন এ বাহিনীর সদস্য।
সাখাওয়াতের নেতৃত্বে কেশবপুরের চিংড়া, বগা, ভাণ্ডারখোলা, নেহালপুর, হিজলডাঙ্গা, গৌরীঘোনা ও ভাল্লুকঘরসহ বিভিন্ন এলাকায় হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ করেন তারা। তাদের অত্যাচার-নির্যাতনে এলাকার সংখ্যালঘুরাও দেশত্যাগে বাধ্য হন।

শেয়ার করুন

0 মন্তব্য: