রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত

স্টাফ রিপোর্টার রাজশাহী: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে কটূক্তি করার অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অভিযুক্ত ওই শিক্ষক রাবির আইন বিভাগের প্রভাষক শিবলী ইসলাম।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ সায়েম উদ্দিনকে আহ্বায়ক, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. ফয়জার রহমান ও সিন্ডিকেট সদস্য অ্যাডভোকেট ইব্রাহিমকে সদস্য করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সিন্ডিকেটের ওই সদস্য আরো জানান, ওই শিক্ষক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে নিয়ে প্রায় সপ্তাহখানেক আগে ফেসবুকে কটূক্তিকর মন্তব্য করেন। আইন মন্ত্রণালয় মন্তব্যটিকে জঙ্গিবাদে উসকানি হিসেবে অভিহিত করে রাবি প্রশাসনসহ মোট নয়টি প্রতিষ্ঠানকে আভিযোগ করে চিঠি দিয়েছে।
সিন্ডিকেটের ওই সদস্য আরো জানান, শিক্ষকের ওই মন্তব্য ২০০৬ সালের তথ্য ও  প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়কে ওই শিক্ষকের বিষয়ে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। এজন্য বিশেষ সিন্ডিকেট সভায় সকল সদস্যের সম্মতিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার এবং এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
প্রশাসন সব নিয়মকানুন মেনেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে কী ধরনের শস্তি হতে পারে তা তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করবে।
বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রভাষক মো. শিবলী ইসলাম নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি করে আইন বিভাগের শিক্ষক হয়েছেন। বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার সময় ওই শিক্ষকের মাস্টার্স (এলএলএম ডিগ্রি) পরীক্ষা শেষ হয়নি। তার অনার্সে প্রথম শ্রেণি ছিল না। তাই তিনি ওই নিয়োগে শিক্ষক হওয়ার যোগ্য ছিলেন না। কিন্তু আইন বিভাগের তৎকালীন দায়িত্বে থাকা (২/১ দিনের জন্য) জামায়াতপন্থি শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল হান্নান ওই শিক্ষকের মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হয়েছে মর্মে একটি প্রশংসাপত্র দিয়েছিলেন। ওই সময়ে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এম আনিসুর রহমান বিশেষ কাজে বাইরে ছিলেন। তার স্থানে আবদুল হান্নান দায়িত্বে ছিলেন। শিবলী ইসলামকে অবৈধভাবে চাকরি দেয়ার কারণে ওই সময়ের চাকরিপ্রার্থী জহুরুল ইসলাম একটি মামলা করেছিলেন। সেই মামলা এখনও চলছে। শিবলী ইসলামের চাকরি এখনও স্থায়ী বা তার কোনো পদোন্নতিও হয়নি

শেয়ার করুন

0 মন্তব্য: