হোয়াটস অ্যাপে কথা বলুন সাবধানে


ডেস্ক রিপোর্ট- ফেসবুকের পর এবার হোয়াটস অ্যাপেও আপত্তিকর মন্তব্য করলে তা অপরাধ বলে গণ্য করা হবে। শুধু তাই নয় সেই ব্যক্তি গ্রেপ্তারও হতে পারেন। অতীতে দেখা গিয়েছে, ফেসবুকে কখনও গঙ্গা নদী নিয়ে অথবা কখনও বা কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে মন্তব্য করার অপরাধে গ্রেপ্তার হতে হয়েছে অনেককে। রাষ্ট্রদ্রোহী তকমাও পেয়েছেন তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ। আসলে সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও মন্তব্যের জেরে গ্রেপ্তার হওয়া কোনও নতুন বিষয় নয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সবার আগে রয়েছে ফেসবুক। সেই তালিকায় নাম জুড়ল হোয়াটস অ্যাপেরও। ইতিমধ্যেই ৬৬এ আইটি অ্যাক্টকে ২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট অসংবিধানিক অ্যাখা দিয়েছে।
৬৬এ ধারায় বলা ছিল, প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে কেউ যদি কোনও ব্যক্তি সম্পর্কে অপরাধজনক বা অশালীন কথা বলে তবে তা শাস্তিযোগ্য। যদিও এই আইনের বিরুদ্ধে গিয়ে সুপ্রিম  কোর্ট জানিয়েছিল, এ আইন সংবিধানবিরোধী ও মত প্রকাশের অধিকারবিরোধী। ভারতীয় নাগরিকের বাকস্বাধীনতাকে এ আইন খর্ব করছে। কিন্তু শীর্ষ আদালতের রায়ের পরেও এ দেশে ৬৬এ অ্যাক্টকে যথেচ্ছ ব্যবহার করার বহু প্রমাণই রয়েছে। তবে এ সবকিছুর বিপরীত দিকে গিয়ে আইনজীবী অপর গুপ্তা জানান, বাকস্বাধীনতার অপব্যবহার করাও একধরনের অপরাধ। কোনও পুরুষ বা নারীর বিষয়ে অশালীন কিছু বলা বা তাঁর ছবিকে বিকৃত করে পেশ করা মোটেও কোনও কৃতিত্বের কাজ নয়। আইনজীবী বলেন, ‘‌এখন ফেসবুকের সঙ্গে হোয়াটস অ্যাপেও এ ধরনের বেশ কিছু জিনিস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষত হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপগুলিতে বিশেষ ব্যক্তিদের নিয়ে মজার খোরাক করা হচ্ছে। যা আদৌও সুস্থ মানসিকতার লক্ষণ নয়।’‌
অপর গুপ্তা জানান, এমনকী হোয়াটস অ্যাপে কিছু বিভ্রান্তিকর খবরও পোস্ট করা হয়। যা দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং অন্য হোয়াটস অ্যাপ ব্যবহারকারীদের মধ্যেও ছড়িয়ে দেন তা। তবে সে ক্ষেত্রে সিআরপিসি ১৪৪ ধারাকে ব্যবহার করে সেই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা যেতে পারে। মনে রাখতে হবে, ফেসবুকের মত হোয়াটস অ্যাপও নজরদারির বাইরে নয়। 

শেয়ার করুন

0 মন্তব্য: