দাউদ ইব্রাহিমের সম্পদ নেবে না তার ছেলে


ডেস্ক রিপোর্ট- ভারতের মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের সম্পদের মালিক হতে চান না তার একমাত্র ছেলে মঈন নওয়াজ ডি কাসকার।

নিয়ম অনুযায়ী, দাউদের সম্পদের উত্তরসূরি হওয়ার কথা থাকলেও এই সম্পত্তির প্রতি কোনো আগ্রহ নেই মইনের। পারিবারিক ব্যবসা থেকে ইতিমধ্যেই মুখ সরিয়ে নিয়েছেন তিনি। মনোযোগ দিয়েছেন ধর্মকর্মে। ধর্মশিক্ষার শিক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান মঈন নওয়াজ।

৩১ বছর বয়সী মঈন নাওয়াজ মনপ্রাণ ইসলামের সেবায় সমর্পণ করে একজন শিক্ষক ও ধর্মপ্রচারক হতে মনস্থির করেছেন।

মহারাষ্ট্রের থানে এলাকার শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা প্রদীপ শর্মা বলেছেন, মঈন তার বাবার বেআইনি কর্মকাণ্ডের প্রচণ্ড বিরোধী। তার বাবার ক্রিয়াকলাপের জন্যই দাউদ ইব্রাহিম পরিবার বিশ্বজুড়ে ফেরারি আসামিতে পরিণত। গত সেপ্টেম্বরে দাউদ ইব্রাহিমের ছোট ভাই ইকবাল ইব্রাহিম কাসকার গ্রেফতার হওয়ার পরে জিজ্ঞাসাবাদে এই কথা জানিয়েছেন।

ইকবাল জানিয়েছেন, দাউদের পরে কে তার অপরাধ সাম্রাজ্যের দেখভাল করবে সেটা নিয়ে তিনি খুব চিন্তিত। এছাড়া তার অন্য আরেক ভাই আনিস ইব্রাহিম কাসকারের শারীরিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় সেটা নিয়ে আরো দুশ্চিন্তা বেড়েছে। মহারাষ্ট্র পুলিশের ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ বলে খ্যাত মাফিয়া লর্ডদের ভয়ের উৎস পুলিশ কর্মকর্তা প্রদীপ বলেন, মঈন বলতে গেলে বাবা ও তার অবৈধ ব্যবসা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রয়েছে। তবে এটা জানা যায়নি সে এখন বাবার সঙ্গে কথা বলেনি।

ইকবাল কাসকার জানিয়েছেন, তার ভাতিজা একজন সম্মানিত ও গুণী মাওলানা যিনি কোরান হিফজ করেছেন। তিনি পাকিস্তানের করাচিতে দাউদের প্রাসাদতুল্য বাড়ি ছেড়ে মসজিদের দেয়া একটি ছোট কোয়ার্টারে সহজ সরল জীবনযাপন করছেন। সেখানে তার স্ত্রী  সানিয়া ও তিন সন্তানও তার সঙ্গে থাকছে।

উল্লেখ্য, দাউদ ইব্রাহিমের স্ত্রী সানিয়া শেখ ধনাঢ্য পরিবারের মেয়ে যাদের পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্যে বড় ব্যবসা রয়েছে। মসজিদের শিশুদের মঈন কোরান ও ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো শিক্ষা দেন।

প্রদীপ শর্মা বলেন, এটা পরিষ্কার যে মঈন চাইলেই তার বাবার আইনি ও বেআইনি সম্পদের মালিক হতে পারতেন। কিন্তু তিনি বিলাসী জীবন বর্জন করে স্রষ্টার কাছে নিজেকে সমর্পণ করেছেন। শুরুর দিকে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনায় স্নাতক মঈন তার বাবার কাছে সহায়তা করত, কিন্তু আল্লাহর ডাকে সেখান থেকে ধীরে ধীরে সরে গেছেন।

মঈনের আরো দুই বোন আছে, যাদের মধ্যে মাহরুখের বিয়ে হয়েছে পাকিস্তানের তারকা ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াদাদের ছেলে জুনাইদের সঙ্গে। এছাড়া আরেক বোন মাহরীনের বিয়ে হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে।

ইকবাল কাসাকার জানিয়েছেন, দাউদ ইব্রাহিম সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এবং বর্তমানে করাচিতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নিরাপত্তায় সেখানে অবস্থান করছেন। তদন্তকারীদের ধারণা ইকবাল তার পরিবারের এই বিব্রতকর পরিস্থিতি সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানাবেন এবং এর ভবিষ্যত কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও ধারণা দেবেন।

শেয়ার করুন

0 মন্তব্য: