ঢালু গেট দিয়ে হুড়াহুড়ি করে ঢুকতে গিয়েই প্রাণহানি


চট্টগ্রাম প্রতিনিধি- শত শত মানুষ হুড়াহুড়ি করে একসঙ্গে প্রবেশ করতে যাওয়ার কারণেই চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুপুরে কমিউনিটি সেন্টারের গেট খুলে দেয়ার পর শত শত মানুষ হুড়াহুড়ি করে ঢুকতে চেষ্টা করেন।
কিন্তু রাস্তা থেকে কমিউনিটি সেন্টারের গেটটি ঢালু হওয়াতে সামনের দিকের লোকজন মাটিতে পড়ে যায়। এ সময় পেছন দিক থেকে আসা লোকজন তাদের পদদলিত করে সামনে এগোনোর চেষ্টা করে।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, ঘটনাটি ঘটেছে একটি পাহাড়ের ঢালে, যেখান থেকে কমিউনিটি সেন্টারটির অবস্থান আরও ঢালুতে। প্রবেশ পথে রয়েছে ইট বিছানো। কিছুটা পিচ্ছিলও ছিল সেই পথ। সামনে সড়কে ছিল যানজট। পেছনের দরজা দিয়ে খেয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন অনেকে। আগতদের মধ্যে ছিল খাবার ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। মূলত এসব কারণেই হুড়োহুড়ির সৃষ্টি, যার পরিণতি- পদদলিত হয়ে মারা যান ১০ জন। 
ঘটনাস্থলে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অনুপ দাস নামে এক তরুণ। তিনি বলেন, ফটকের বাইরে অনেক মানুষের ভিড় ছিল। ঢোকার সময় পেছনের চাপে সামনে ওই ঢালু জায়গায় থাকা বেশ কয়েকজন পড়ে যান। তখন তাদের ওপর দিয়েই পেছনের লোকজন হুড়মুড় করে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। ফলে অনেক মানুষ হতাহত হয়।
তিনি জানান, মূল সড়ক থেকে দু’দফায় ঢালু পথ অতিক্রম করে রীমা কমিউনিটি সেন্টারে প্রবেশ করতে হয়। প্রবেশের দুটো গেট রয়েছে। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে পেছনের গেট দিয়ে কিছু লোক ঢোকে এবং খেয়েদেয়ে তারা বেরিয়েও যায়। ঘটনার আগ মুহূর্তেও কিছু ভিআইপি লোককে পেছনের গেট দিয়ে ভেতরে ঢাকানো হচ্ছিল। এতে করে সামনের গেটে আগতদের মধ্যে হা-হুতাশ দেখা দেয়। তারা মনে করে, হয়তো খাবার ফুরিয়ে যেতে পারে। তখনই শুরু হয় তাড়াহুড়ো। সবাই একসঙ্গে ভেতরে ঢোকা চেষ্টা করতে থাকে।

শেয়ার করুন

0 মন্তব্য: