জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণার প্রত্যয় ওআইসি'র


ডেস্ক রিপোর্ট-  ​জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণার মার্কিন সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের কথা জানিয়ে ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)'র নেতারা। এক বিবৃতিতে এ কথা জানান সংগঠনটির মহা সচিব।
বুধবার ইস্তাম্বুলে ওআইসি বৈঠকের উদ্বোধনী দিনে মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের একতাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান মহা সচিব ইউসেফ আল-ওথাইমিন।
তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তা প্রত্যাখান করছে ওআইসি। এটা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং সারাবিশ্বের মুসলিমদের অনুভুতিতে আঘাত। এটা ওই অঞ্চল সহ পুরো বিশ্বে অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে।'
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদেরকে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনায় নিজেদেরকে 'অযোগ্য' প্রতীয়মান করেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ৫৭ সদস্য বিশিষ্ট সংগঠন ওআইসি নিজেদেরকে 'মুসলিম বিশ্বের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর' হিসেবে দাবি করে।
চলতি মাসের ৬ তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে জেরুজালেমে নেয়ার কথাও জানান তিনি।
মাহমুদ আব্বাসের মতে, ওই ঘোষণা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
তিনি বলেন, 'শান্তি প্রক্রিয়ায় আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকাকে মেনে নেব না। তারা নিজেদেরকে ইসরায়েলের পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে প্রমাণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, 'জেরুজালেম ফিলিস্তিনেরই রাজধানী এবং সবসময়ই তা থাকবে।'
উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনিরা নিজেদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী বিবেচনা করে জেরুজালেমকে। অন্যদিকে, ইসরায়েল মনে করে শহরটি তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং অবিভাজ্য।
আব্বাসের মন্তব্য এই ইস্যুতে তার শক্ত অবস্থান প্রমাণ করে।
ট্রাম্পের ঘোষণার প্রেক্ষিতে ওআইসি'র এই বিশেষ বৈঠকের ডাক দেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।
বৈঠকে ইসরায়েলকে 'সন্ত্রাসের রাষ্ট্র' হিসেবে অভিহিত করেন এরদোগান। তিনি বলেন, মার্কিন সিদ্ধান্ত বর্জন করেছে বিশ্বের শান্তিকামী দেশগুলো। ইসরায়েল ব্যতীত কোনো দেশ এই সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না।
আল জাজিরা জানায়, মুসলিম বিশ্বকে 'একত্রিত করার' প্রয়াস ব্যক্ত করেছেন এরদোগান।
বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, ফিলিস্তিনিদের অধিকার সংরক্ষণে মুসলিম দেশগুলোর সংঘবদ্ধ থাকা উচিত। তিনি মনে করেন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য অপমানজনক।
তিনি বলেন, 'ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে ইরান প্রস্তুত। আমাদের (মুসলিম) মধ্যে একতাবদ্ধতা খুবই প্রয়োজনীয় এবং জেরুজালেম হওয়া উচিত আমাদের প্রধান গুরুত্ব।'
প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মধ্যপ্রাচ্য তথা এশিয়া থেকে উত্তর আফ্রিকার মুসলিম দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা। হাজার হাজার মানুষকে সমবেত হতে দেখা গেছে বিক্ষোভে।

শেয়ার করুন

0 মন্তব্য: