৫৬ বছরেও ফুরিয়ে যায়নি ভালবাসা!


বর্তমান সময়ের ভালবাসাকে একপ্রকার কচুপতার পানির সাথে তুলনা করা যায়।আজ আছে তো কাল নেই।তবে কিছু ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম ও আছে। এমনি এক ভালবাসার দেখা মিলল পাবনা জেলা শহরে। নাম শামছুল আলম (৭৮) ও রওশন আরা(৭০)। যারা ভালবাসার সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছেন বছরের পর বছর,কখনো মনে হয়নি যে বয়সের তালে তালে ভালবাসায় ভাটা পড়েছে। নিজেদের প্রেমকে প্রতিদিই নতুনভাবে উপভোগ করেন। যেখানে যান না কেন একসাথে। কখনো পত্রিকার দোকানে পত্রিকা কেনেন, কখনো বা মিষ্টির দোকানে বসে মিষ্টি খান। আবার কখনো বাজারের ব্যাগ হাতে হাঁটতে থাকেন। প্রতিক্ষণ দুজন একসঙ্গে। যেন চলার পথে একজন অন্যজনের ছায়াসঙ্গী। পাবনাবাসীর কাছে তারা ভালোবাসার এক জীবন্ত কাহিনী।এই শহরে এ জুটিকে সবাই চিনে।অনেকে অনুপ্রাণিত হন তাঁদের দেখে। বর্তমান সময়ে তরুণদের ভালোবাসার রং বদলায় ক্ষণে ক্ষণে। আস্থার প্রতি ক্লান্ত হয়ে সংসার ভাঙে। এই দম্পতি তাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় ভালোবাসা কেমন। যাঁরা ভালোবাসার বন্ধনে একে ওপরকে আঁকড়ে ধরে কাটিয়ে দিচ্ছেন যুগের পর যুগ। দুজনই বয়সের ভারে কিছুটা নুয়ে পড়েছেন। বয়স বাড়ায় শরীরে নানা অসুখ বাসা বেঁধেছে। তবু সংসারের দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে ডাক্তার দেখানো, বাজার করা, প্রাতর্ভ্রমণ, বেড়ানোসহ সব ক্ষেত্রেই চলছেন একসঙ্গে। তাদের ভাষায়,স্মৃতির পাতা থেকে হারিয়ে গেছে বহু গল্প। তবু্ও ভালোবাসা হারায়নি এক ফোঁটাও। জীবনে প্রত্যেকক্ষেত্রে একজন অরেকজনের প্রতি বিশ্বাস রেখেছেন। কখনো আস্থাহীন হয়নি। একে অপরের প্রতি বিশ্বস্থ থেকেছে। আর এভাবেই তারা একে অপরের প্রতি ভালবাসা ফুটিয়ে তুলেছে। শামছুল হকের স্ত্রী রওশন আরার কন্ঠেও এই কথা, তিনিও জানেন না ভালোবাসা আসলে কী। তবে বিশ্বাস রেখেছেন, সারা জীবন একে অপরের হাতটি ধরে চলার চেষ্টা করেছেন। মনে হয়েছে এটাই ভালোবাসা। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এভাবে চলবে বলে মনে করেন তিনি। মা-বাবার এই ভালোবাসায় মুগ্ধ তাঁদের একমাত্র মেয়ে মাহ্ফরোজী আহম্মেদ। মা-বাবার এমন বন্ধনে গর্বিত তিনি।
শামসুল আলমের জন্ম ১৯৪১ সালে। পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৭৩ সালে প্রথম বিসিএসে উত্তীর্ণ। কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। আর রওশন আরা এসএসসি পাস করা গৃহিণী। দুজনেরই বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ভাঁড়ারা গ্রামে। ১৯৬২ সালে তাঁদের পরিচয়। তখন থেকেই ভালোবাসার শুরু, ১৯৬৩ সালে বিয়ে। এরপর থেকে কেউ কাউকে ছেড়ে থাকেননি কখনো। কোনো ক্লান্তিও স্পর্শ করেনি দুজনের মনে।
১৯৯৮ সালে কর্মজীবন শেষ করে এতিমখানা পাড়ায় নিজের বাড়িটি তৈরি করেন শামসুল আলম। কিছুদিন পর মেয়ের বিয়ে দেন। কিছুটা একা হয়ে পড়েন রওশন আরা। তখন থেকে আর একটি বেলার জন্যও আলাদা হননি দুজন। ঘরে-বাইরের প্রতিটি কাজে দুজন দুজনের সঙ্গে আছেন। চলার পথে একে অপরকে ধরে রাখছেন শক্ত করে। আগলে রাখছেন ভালোবাসার বন্ধনে। এ যেন সকলের মাঝে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

শেয়ার করুন

0 মন্তব্য: