জাতীয় বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপ এক লন্ডনি ছেলের চমক


ইংল্যান্ড প্রবাসী সাফওয়ান বাংলাদেশে এসেছেন ৭ই ফেব্রুয়ারি। উদ্দেশ্য জাতীয় বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ। দেশের সর্ববৃহৎ এ আসরের শুরুতে দল পাচ্ছিলেন না বৃটিশ প্রবাসী এই বক্সার। পরে সাধারণ সম্পাদক এমএ কুদ্দুসের ক্লাব থেকেই অংশ নিলেন জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে। রিংয়ে নেমেই বাজিমাত করলেন লন্ডন প্রবাসী সিলেট বিয়ানীবাজারের এই তরুণ।
প্রথম দুই রাউন্ডে খুব সহজেই প্রতিপক্ষ বক্সারকে হারিয়েছেন সাফওয়ান। তার ওই খেলা দেখে তাকে নিয়ে কোনো উচ্ছ্বাস দেখাননি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। তার একটাই কথা- আগে সেনাবাহিনীর সঙ্গে খেলুক তারপরে ওকে নিয়ে মন্তব্য করবো। গতকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিপক্ষে রিংয়ে নামেন সাফওয়ান। ৬১ কেজি ওজন শ্রেণিতে সেনাবাহিনীর ফয়সাল মোল্লাকে হারিয়ে ফাইনালে উঠলেন।  ফাইনালে উঠামাত্র ওকে সেরা খেতাব দিয়ে দিলেন ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস। ‘ও চ্যাম্পিয়ন হবে। ফাইনালে যে আসুক ওর ধারে কাছে আসতে পারবে না’- বলেন তিনি।
সাফয়ানকে নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার কথাও জানান ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক। বাবা লন্ডন প্রবাসী জবলু উদ্দিনও আশাবাদী ছেলেকে নিয়ে। ‘আমার বিশ্বাস বিদেশের মাটিতে আমার ছেলে একদিন লাল-সবুজের পতাকা উড়াবে’। আগামী এপ্রিলে অস্ট্রেলিয়ার গোল্ডকোস্টে বসছে কমনওয়েলথ গেমস। সেখানে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। এশিয়াডে বক্সিং পাঠাবে না বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন। তাহলে সাফওয়ানের সুযোগ কোথায় জানতে চাইলে কুদ্দুস জানান, হয়তো দ্রুতই ওকে আমরা আন্তর্জাতিক আসরে সুযোগ করে দিতে পারবো না। তবে সামনে এসএ গেমস আছে। ওই আসরের জন্য এখন থেকে ওকে আমরা প্রস্তুত করবো।
জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে উচ্ছ্বসিত সাফওয়ান জানান, দেশের মাটিতে খেলতে এটা আমার জন্য বাড়তি একটি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। আমি এর আগে এতটা অনুপ্রাণিত হয়ে খেলিনি। প্রতিপক্ষ নিয়ে এই বক্সার বলেন, প্রত্যেক প্রতিপক্ষকে আমি সম্মান করি। বিশেষ করে বাংলাদেশি বক্সারদের, কারণ এটা আমার দেশ। আমি জেতার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। কারণ আমি জানি, বক্সিং পয়েন্টের খেলাটা। কোথায় মারলে পয়েন্ট পাওয়া যায়, সেভাবেই আমি খেলেছি। দ্বিতীয় রাউন্ডে ওকে যখন লুটিয়ে ফেললাম তখন তার পয়েন্ট কাটা গেছে। এটাকে আমাকে খুব উজ্জীবিত করেছে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।  লন্ডন ও বাংলাদেশের বক্সারদের মধ্যে পার্থক্য কি জানতে চাইলে সাফওয়ান বলেন, পার্থক্যটা হলো, আমি যাদের সঙ্গে খেলি তারা অনেক বেশি টেকনিক্যাল এখানকার বক্সারদের বেশি আছে স্পিরিট। দাদা সেলিম উদ্দিন জাতীয় সংসদ সদস্য। সাফওয়ানের বাবা জবলু উদ্দিনের ইচ্ছা, দাদার মতো তার ছেলেও দেশের সম্মান বৃদ্ধি করবে। তবে সেটা রাজনীতির ময়দানে না হয়ে বক্সিংয়ের রিং-এ।

শেয়ার করুন

0 মন্তব্য: