ক্যালেন্ডারেই বন্দী পপগুরুর জন্মদিন

বিনোদন প্রতিবেদক
বাংলাদেশের পপ সংগীতের কিংবদন্তি তারকা আজম খান। শুধু একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে নন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেও তিনি এ দেশের জন্য অকাতরে বিলিয়ে গেছেন অনেক কিছু। গানের মাধ্যমে তিনি বলে গেছেন দেশ, মাটি, মানুষ ও মানবতার কথা। তাইতো সংগীতপ্রিয় সবাই আজম খানকে ‘পপগুরু’ হিসেবে মানেন।
অবিসংবাদিত এই তারকার ৬৮তম জন্মদিন আজ (২৮ ফেব্রুয়ারি)। ১৯৫০ সালের এই দিনে তিনি ঢাকার আজিমপুরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সংগীতাঙ্গনে অসামান্য অবদান রেখে যাওয়া এই পপগুরুর জন্মদিনে কোনও আয়োজনের খবর পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ কোনও রকম আয়োজন ছাড়াই পেরিয়ে যাচ্ছে ভাষার মাসের শেষ দিন তথা আজম খানের জন্মদিন।
শুধু তাই নয়, আজম খানের গান সংরক্ষণ ও প্রসারের জন্য ‘শিল্পী আজম খান ফাউন্ডেশন’ নামক একটি সংগঠন কাজ শুরু করে। কিন্তু সংগঠনের পদ জটিলতা আর আর্থিক সংকটের কারণে গেলো বছর এর সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
আজম খানের জন্ম আজিমপুরে হলেও ৫ বছর বয়সে তিনি পরিবারসহ কমলাপুরে চলে যান। সেখানে থেকেই পড়াশুনার পাশাপাশি গানের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন আজম খান। ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠীর হয়ে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তিনি গণসংগীত প্রচার করেন।
এরপর ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেন আজম খান। তিনি মুক্তিযুদ্ধের দুই নম্বর সেক্টরের একটি সেকশনের ইনচার্জের দায়িত্বে ছিলেন। কুমিল্লার সালদায় প্রথম সরাসরি যুদ্ধ করলেও তিনি ঢাকা ও এর আশেপাশে বেশ কয়েকটি গেরিলা আক্রমণে অংশ নিয়েছিলেন।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে আজম খান তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে গঠন করেন ‘উচ্চারণ’ ব্যান্ড। একই বছর তার ‘এতো সুন্দর দুনিয়ায় কিছুই রবে না রে’ এবং ‘চার কালেমা সাক্ষী দেবে’ গান দুটি বিটিভিতে প্রচারের পর ব্যাপক আলোচিত হয়। তার কিছু দিন পর ‘রেললাইনের ওই বস্তিতে’ গান দিয়ে গোটা দেশে তিনি আলোড়ন সৃষ্টি করেন।
সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আজম খান উপহার দেন অনেক জনপ্রিয় এবং কালজয়ী গান। এর মধ্যে রয়েছে-‘আমি যারে চাইরে’, ‘রেললাইনের ওই বস্তিতে’, ‘ওরে সালেকা ওরে মালেকা’, ‘আলাল ও দুলাল’, ‘একসিডেন্ট’, ‘অনামিকা’, ‘অভিমানী’, ‘আসি আসি বলে’, ‘হাইকোর্টের মাজারে’, ‘পাপড়ি’, ‘বাধা দিও না’, ‘যে মেয়ে চোখে দেখে না’ ইত্যাদি।
শুধু গানেই নয়, শোবিজের অন্যান্য ক্ষেত্রেও কাজ করেছেন আজম খান। ১৯৮৬ সালে ‘কালা বাউল’ নামে হিরামনের একটি নাটকে এবং ২০০৩ সালে শাহীন-সুমন পরিচালিত ‘গডফাদার’ চলচ্চিত্রের নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। এছাড়া ২০০৩ সালে ক্রাউন এনার্জি ড্রিংকসের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মডেলিংয়েও আসেন আজম খান। এরপর আরও কিছু বিজ্ঞাপনেও মডেল হিসেবে কাজ করেন তিনি।
আজম খান ১৯৮১ সালের ১৪ জানুয়ারি সাহেদা বেগমকে বিয়ে করেন। ইমা খান ও অরণী খান নামে দুই মেয়ে ও হৃদয় খান নামের এক ছেলের পিতা আজম খান।
২০১০ সালে ক্যানসারে আক্রান্ত হন আজম খান। তার এক বছর পরই অর্থাৎ ২০১১ সালের ৫ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান পপগুরু। মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

শেয়ার করুন

0 মন্তব্য: