নতুন সিনেমা নেই, প্রেক্ষাগৃহে পুরনো ‘আয়নাবাজি’


ঢাকাই ছবির জন্য ২০১৮ সালের শুরুটা একেবারেই মন্দ। প্রথম মাস জানুয়ারিতে মুক্তি পাওয়া ৪টি সিনেমার সবগুলোই হয়েছে ব্যর্থ। শুধু তাই নয়, গত দুই সপ্তাহের মতো আগামী সপ্তাহেও দেশীয় কোনও নতুন সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে না। টানা তিন সপ্তাহের এমন অবস্থাকে ইন্ডাস্ট্রির চরম দুরবস্থা বলছেন বিশ্লেষকরা।
গত দুই সপ্তাহে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে কলকাতা থেকে আমদানি করা ‘জিও পাগলা’ ও ‘ইন্সপেক্টর নটি কে’। সাফটা চুক্তির আওতায় আমদানি করা আগের সিনেমাগুলোর মত এই দুটিও সাড়া জাগাতে পারেনি এ দেশের দর্শকমনে। ফলে প্রেক্ষাগৃহগুলোতে বিরাজ করছে ধূধূ-হাহাকার।
এমন অবস্থায় দেশের সিনেমা হলগুলোতে চলছে পুরনো সিনেমা। ঢাকার বেশ কিছু প্রেক্ষাগৃহে দেখা গেছে, শাকিব খানসহ অন্যান্য নায়কের পুরনো সিনেমা প্রদর্শিত হচ্ছে। হল কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন সিনেমা না মুক্তি পেলে কিছু করার থাকে না। হল তো সচল রাখতে হবে। তাই পুরনো সিনেমা দিয়েই স্ক্রিন চালু রাখা।
এদিকে ২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া সুপারহিট সিনেমা ‘আয়নাবাজি’ আগামী শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্স ও শ্যামলী সিনেমা হলে মুক্তি পাচ্ছে। গত এক বছর বিরতির পর সিনেমাটি কোনও প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে। যদিও এর আগে মুক্তির এক বছর উপলক্ষে রাজধানীর একটি প্রেক্ষাগৃহে ‘আয়নাবাজি’র একটি বিশেষ শো হয়েছিলো। তবে ব্যবসাসফল ও দর্শকপ্রিয় দুটি তকমা থাকার পরও গত এক বছরে এই সিনেমা চালানোর প্রতি আগ্রহ দেখায়নি কোনও সিনেমা হল।
অবাক করার মতো হলেও এটাই সত্য। বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে ‘আয়নাবাজি’র নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী গণমাধ্যমের কাছে জানান, এখনও সিনেমা হল মালিকদের কাছে ‘আয়নাবাজি’র প্রযোজক-পরিবেশক অনেক টাকা পাওনা রয়েছে। এই টাকা পরিশোধ করার ভয়ে হল মালিকরা গত এক বছরে একটি শো’ও চালায়নি সিনেমাটির। শুধু তাই নয়, এই সিনেমা নির্মাণ করার কারণে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলেও দাবি অমিতাভ রেজার।
প্রসঙ্গত, ‘আয়নাবাজি’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, মাসুমা রহমান নাবিলা, পার্থ বড়ুয়া, লুৎফর রহমান জর্জ, বৃন্দাবন দাশ, গাউসুল আলম শাওন প্রমুখ।

শেয়ার করুন

0 মন্তব্য: