দায়িত্ব আরো বেড়ে গেল’

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী নিপুণ। এই পরিচয় ছাড়াও এখন তিনি একজন নারী উদোক্তা হিসেবে বেশ পরিচিত মুখ। অভিনয়ের বাইরে বর্তমানে নিপুণ তার ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান ‘টিউলিপ নেইলস অ্যান্ড স্পা’-তে বেশি সময় দিচ্ছেন। সম্প্রতি এই নতুন পরিচয়ের জন্য তিনি সফল নারী উদোক্তা হিসেবে পুরস্কারও জিতেছেন। এ প্রসঙ্গে নিপুণ  বলেন, গত বুধবার গুলশান ক্লাবে ‘উইংস অ্যাওয়ার্ড অব এক্সিলেন্স’-স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে আমাকে। এতে করে আমার দায়িত্ব আরো বেড়ে গেল।আর দায়িত্ববোধটা অন্য কারো জন্য না, আমার নিজের কাছে। নারী উদোক্তা হিসেবে এই সম্মাননার জন্য ‘উইংস’ এবং ফ্যাশন ডিজাইনার টুটলী রহমানকে বিশেষ ধন্যবাদ। মূলত বড়পর্দায় নিয়মিত অভিনয় করেন নিপুণ। তবে মাঝে মধ্যে ঈদে ছোটপর্দার বিশেষ নাটকেও তাকে দেখা যায়। সামনে কোনো নাটকে তাকে দেখা যাবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখন তেমন কাজ করছি না। বলতে গেলে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়েই আমাকে বেশি ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। তবে প্রতি ঈদে আমি দর্শকদের জন্য বিশেষ নাটকে অভিনয় করি। এবারও কথা চলছে। অবশ্য এখনো চুড়ান্ত হয়নি। ঈদে ছোটপর্দার জন্য একটি নাটকে কাজ করার কথা চলছে। এদিকে নিপুণ সবশেষ উত্তম আকাশের ‘ধূসর কুয়াশা’ ছবির জন্য ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। এ ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন নবাগত মুখ মুন্না। ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন পুষ্পিতা পপি। ছবিটি গত মাসে সেন্সর বোর্ড থেকে ছাড়পত্র পায়। এ প্রসঙ্গে নিপুণ বলেন, এ ছবির বিষয়ে আমি নয়, পরিচালক ভালো বলতে পারবেন। ছবিটি কবে মুক্তি দেয়া হবে সেটাও আমি জানি না। গত বছরের ঈদেও তিনটি নাটকে অভিনয় করেন নিপুণ। এরমধ্যে সাজ্জাদ হোসেন দোদুলের ‘মহব্বত ব্যাপারী’, জিয়াউর রহমানের ‘লাইট ক্যামেরা অ্যাকশন’ নামের খন্ড নাটক এবং এস এ হক অলিকের রচনা ও নির্দেশনায় ‘প্রেমের ঘুনপোকা’ নামের টেলিফিল্মে অভিনয় করে বেশ সাড়া পান তিনি। ‘পিতার আসন’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে রুপালী জগতে পা রাখেন নিপুণ। ২০০৮ সালে হুমায়ূন আহমেদ রচিত ‘সাজঘর’ ও ২০০৯ সালে ‘চাদের মত বউ’ ছবির মাধ্যমে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেন তিনি। একের পর এক ছবিতে কাজ করতে করতে নিজেকে চলচ্চিত্রাঙ্গনেই ব্যস্ত করে তোলেন। রিয়াজ, ফেরদৌস, আমিন খান, শাকিব খানসহ এই সময়ের স¤্রাট, নিরবের সঙ্গেও অভিনয়ে নিজেকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করেছেন নিপুণ। কিছুদিন আগে তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ‘অজ্ঞাতনামা’ ছবিতেও অভিনয় করে বেশ প্রশংসা পান এ অভিনেত্রী। ছবিটিতে মোশাররফ করিম ও শহীদুজ্জামান সেলিমের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ‘অজ্ঞাতনামা’ ছবিটি কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে ৫৭তম এশিয়া-প্যাসিফিক চলচ্চিত্র উৎসবের সমাপনী দিনে সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে পুরষ্কৃত হয়। নতুন ছবিতে কাজ করার বিষয়ে নিপুণ বলেন, ভালো গল্পে সবসময়ই কাজ করতে চেয়েছি। এখন সিনেমা হলে সার্ভার বসানো, পাইরেসি রোধ, প্রেক্ষাগৃহ আধুনিকীকরণসহ নানা বিষয়ের দিকে নজর দেয়া দরকার। এসব ঠিক না থাকলে ভালো গল্পের ছবিতে কাজ করেও লাভ নেই। কারণ দিন শেষে ছবির ফলাফলটাই আসল। একজন প্রযোজক বা পরিচালক ছবির লাভের টাকা সিনেমা হল থেকে কতটুকু পাচ্ছেন তা আমরা সকলেই জানি। তাই যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলোর দ্রুত সমাধান দরকার। না হলে অভিনয় করে গেলে অভিনেতা বা অভিনেত্রীরা শুধু লাভবান হবেন। কিন্তু তাতে প্রযোজকরা তাদের লগ্নি ফিরে পাবেন না। একজন পেশাদার শিল্পী হিসেবে এসব নিয়ে ভাবনা হয় আমার। প্রসঙ্গত, বাণিজ্যিক ও নান্দনিক ছবিতে যে কজন শিল্পী অভিনয় করেন তাদের একজন নিপুণ। খুব শিগগিরই আবারো নতুন ছবিতে নতুন চরিত্রে দর্শকের সামনে রুপালী পর্দায় তাকে দেখা যাবে এমনই আভাস দিয়েছেন তিনি।

শেয়ার করুন

0 মন্তব্য: