আল্লাহর সাক্ষাতই রোজার প্রতিদান

নিজস্ব প্রতিবেদক
রহমতের চতুর্থ দিন আজ। মাহে রমজান বান্দাহকে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আল্লাহর রহমত প্রাপ্তির সুযোগ করে দেয়। রোজাদারদের জন্য সবচেয়ে বড় সুসংবাদ হচ্ছে- রোজার প্রতিদান।
মূলত মহান আল্লাহ পাকের দিদার (সাক্ষাত) লাভ করাই হচ্ছে রমজানের আসল প্রতিদান। আর সেই প্রতিদান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নিজ হাতেই দেবেন। যা রমজান মাস ছাড়া অন্য কোনো মাসে নেই।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের এবাদত বন্দেগি সবকিছুর লক্ষ্য উদ্দেশ্য একটাই- আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টি অর্জন। রোজা রাখার উদ্দেশ্যও অভিন্ন। রোজার রাখায় আল্লাহকে পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ রোজার প্রতিদান হিসেবে মহান আল্লার দিদার লাভ করা যায়।
এ প্রসঙ্গে সাহাবি হযরত আবু হুরায়রা (রাদি) বলেন, রসূলে পাক (সা.) এরশাদ করেছেন, মানুষের প্রতিটি সৎকাজের বিনিময়ে দশগুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত সওয়াব (পুণ্য) দান করা হয়।
আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন, ‘ইল্লাচ্চাওমা ফাইন্নাহু লি ওয়া আনা আজজিবিহী।’ কিন্তু রোজা এর ব্যতিক্রম। সেটা আমার জন্য, আমিই এর প্রতিদান দেবো। (রোজাদারের জন্য কী প্রতিদান রয়েছে তার উত্তরে স্বয়ং) আল্লাহ পাক আরো বলেন, বান্দা তার ইচ্ছা ও আহার শুধু আমারই কারণে ছেড়ে দেয়। রোজাদারের জন্য দুটি খুশি একটি ইফতারের সময় অন্যটি আল্লাহ তাআলার সঙ্গে সাক্ষাতের সময়....। (সহিহ মুসলিম)
তাফসীর গ্রন্থে হাদিসে কুদসীর এ বাণীর অর্থ , ‘রোজার প্রতিদান আমি নিজেই হবো। তার মানে রোজা রেখে রোজাদার আল্লাহকে পেয়ে যায়।'
মূলকথা, রোজার প্রতিদান হচ্ছে আল্লাহর সঙ্গে দেখা-সাক্ষাত। আল্লাহ নিজেই বান্দার সঙ্গে সাক্ষাত করবেন।
মাহে রমজানে যারা ইসলামী শরীয়তের হুকুম আহকাম মেনে রোজা রাখবে, সৎকাজ করবে তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে ‘নিজ হস্তে প্রতিদান’ তো আছেই, সেই সঙ্গে আরো কত পুরস্কার যে রয়েছে তা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। রোজাদারের ঘুম ও নীরবতা পর্যন্ত এবাদত হিসেবে গণ্য করা হবে।
সাহাবি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আওফা (রাদি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,  রোজাদারের ঘুমানো এবাদত, তার নীরবতা হলো তাসবীহ পাঠ করা, তার দোয়া কবুল এবং তার আমল মকবুল। (শুয়াবুল ঈমান, ৩য় খণ্ড, ৪১৪ পৃষ্ঠা)
মাহে রমজানে রোজাদারের জন্য প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রতিদানের শেষ নেই। দেখুন না, একজন রোজাদার কী সৌভাগ্যবান।
উম্মুল মুমেনিন সৈয়্যদাতুনা আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, প্রিয়নবী হযরত মোহাম্মদ  (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রোজা অবস্থায় ভোরে জাগ্রত (উঠে) হয়, তার জন্য আসমানের দরজা খুলে দেয়া হয়। তার অঙ্গ প্রত্যঙ্গ তাসবীহ পড়ে এবং প্রথম আসমানে অবস্থানকারী ফেরেশতা তার জন্য সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত মাগফিরাতের দোয়া করে। যদি রোজাদার এক কিংবা দুই রাকাআত নামাজ পড়ে তবে তার জন্য আসমানের আলো উদ্ভাসিত হয়ে যায়.......। (শুয়াবুল ঈমান, ৩য় খণ্ড, ২৯৯ পৃষ্ঠা।)
রোজাদারের জন্য আল্লাহ পাক অনেক নেয়ামত দান করেছেন। যারা সঠিকভাবে রোজা রাখবেন তারাই আল্লাহ পাকের এসব নেয়ামতের সৌভাগ্যবান হবেন।
আমিরুল মুমেনিন সৈয়্যদুনা হযরত আলী মুরতাজা (রাদি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘যাকে রোজা পানাহার থেকে বিরত রেখেছে, রোজার প্রতি যার মনের আগ্রহ ছিলো, আল্লাহ তাআলা তাকে (রোজাদারকে) জান্নাতি ফলমুল আহার করাবেন এবং জান্নাতি পানি পান করাবেন। (শুয়াবুল ঈমান, ৩য় খণ্ড, ৪১০ পৃষ্ঠা।)
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রকৃত রোজাদারকে রোজার বদলে প্রতিদান হিসেবে হিসাব ছাড়াই সওয়াব (পুণ্য) দান করবেন।
হযরত কা’আবুল আহবার (রাদি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘কেয়ামতের দিন একজন আহ্বানকারী এই বলে আহ্বান করবেন, প্রতিটি আমলকারিকে তার আমল এর সমান সওয়াব দেয়া হবে, শুধুমাত্র কোরআনের জ্ঞানে জ্ঞানীগণ ও রোজাদার ব্যতীত। তাদেরকে অফুরন্ত ও হিসাব ছাড়া সওয়াব দেওয়া হবে।' (শুয়াবুল ঈমান, ৩য় খণ্ড, ৪১৩পৃষ্ঠা।)
রোজার প্রতিদান হিসেবে আল্লাহ তাআলা রোজাদারকে জাহান্নাম থেকে অনেক দূরে রাখবেন।
সাহাবি হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাদি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, `যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার পথে একদিন রোজা রাখবে আল্লাহ পাক তার চেহারাকে জাহান্নাম থেকে সত্তর বছর দূরে রাখবেন।' (বুখারি শরীফ, ২য় খণ্ড, ২৬৫পৃষ্ঠা, হাদিস-২৮৪০)
তাই আসুন, রমজানের সবগুলো রোজা পালনের মধ্যদিয়ে আমরা মহান রবের সাক্ষাত লাভের সৌভাগ্যবান হই। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবুল করুন...আমীন।

শেয়ার করুন

0 মন্তব্য: