ইয়েমেনে সৌদি অবরোধ অব্যাহত


ডেস্ক রিপোর্ট- ইয়েমেনে ত্রাণ সরবরাহের পথ খুলে দেয়ার অঙ্গীকার করলেও তা পূরণ করেনি সৌদি আরব। এতে মানবিকভাবে বিপর্যস্ত ইয়েমেনে এখনো কোনো ত্রাণ পাঠানো সম্ভব হয়নি। ফলে অনাহারে দিনাতিপাত করছে দেশটির লাখ লাখ মানুষ। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো এই অভিযোগ করেছে। এ খবর দিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। খবরে বলা হয়, পশ্চিমা সরকারগুলোর তীব্র চাপের মুখে বুধবার ইয়েমেনের হোডেইডা বন্দরের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে রাজি হয় সৌদি আরব। দুই পক্ষের সমঝোতা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় বন্দরটি খুলে দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই সময়সীমার আট ঘণ্টা পরও বন্দরটি খুলে দেয়নি সৌদি আরব। সাহায্য সংস্থাগুলো জানিয়েছে, তাদেরকে ওই বন্দর দিয়ে ইয়েমেনে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। ইয়েমেনে অবস্থানরত জাতিসংঘের একটি সূত্র জানিয়েছেন, আমরা ত্রাণবাহী যানগুলো প্রবেশের অনুমতি দেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। কিন্তু তা কোনো কাজে আসছে না। আমরা জানি না কেন বিলম্ব করা হচ্ছে। ইয়েমেনে নিযুক্ত জাতিসংঘের কর্মকর্তা জেমি ম্যাকগোল্ডরিক বলেন, সেখানে একটি নিয়ম আছে। আমরা ত্রাণবাহী যানগুলো ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেয়ার জন্য সৌদি জোটকে জানিয়েছি। স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী আমরা সব কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি। এখন আমরা অনুমতির অপেক্ষা করছি। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যে কোনো সময় ত্রাণবাহী যানগুলো ঢুকতে দেয়া হবে বলে আশাবাদী তিনি। ত্রাণের দুইটি চালান হোডেইডাতে আটকা পড়েছে। এর একটিতে খাবার ও অন্যটিতে জরুরি ওষুধ পাঠানো হয়েছে। চারদিন ধরে এগুলো ইয়েমেনে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে, সৌদি আরব দাবি করেছে, তারা রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিয়েছে। কিন্তু এখনো বিমানবন্দরটিতে কোনো বিমান উঠানামা করেনি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত চাপের মুখে বুধবার ইয়েমেনে ত্রাণ পাঠানোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে রাজি হয় সৌদি আরব। তবে বাণিজ্যিক চালানের ওপর অবরোধ বহাল রাখা হয়। সৌদি আরবের দাবি এসব চালানের মাধ্যমে হুতি বিদ্রোহীদের কাছে অস্ত্র পাঠানো হয়।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টি অবরোধ তুলে না নেয়া পর্যন্ত সৌদি আরবে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত রাখতে বৃটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। দলটির মুখপাত্র ফেবিয়ান হ্যামিল্টন বলেন, হোদেইদা ও সানা বিমানবন্দর খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত যথেষ্ট নয়। ইয়েমেনের নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকরা এখনো অনাহারে দিনাতিপাত করছে। এদের মধ্যে অনেক শিশুও রয়েছে। নিষ্ঠুর এই অবরোধের কারণে তারা এখনো অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি বলেন, অবরোধ পুরোপুরি তুলে নিয়ে দেশটিতে জাতিসংঘ ও অন্য বাণিজ্যিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি না দেয়া পর্যন্ত সৌদি আরবের কাছে বৃটেনের অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করার বিষয়ে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। আর কোনো নিরপরাধ প্রাণ হারিয়ে যাওয়া রোধ করতে বৃটেনের সরকারকে অবশ্যই কাজ করতে হবে।

শেয়ার করুন

0 মন্তব্য: